দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দুই শতাব্দীর পুরনো একটি লোহার সিন্দুক। বছরের পর বছর ধরে সযত্নে সংরক্ষিত ছিল ধানের গুদামে। বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সেই সিন্দুক খুলতেই বেরিয়ে এলো প্রায় ৮০০ হাত দৈর্ঘ্যের বিশাল এক পতাকা। অবাক করা এ ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরা সদর উপজেলার মঘী ইউনিয়নের ভাবনাটি বাজার এলাকায়।
রোববার (৭ জুন) বিশ্বকাপের বাঁশি বাজতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। কিন্তু মাগুরার ভাবনহাটি গ্রামে শুরু হয়ে গেছে ফুটবলের মহোৎসব। চারদিকে শুধু পতাকা আর পতাকা। বাতাসে উড়ছে প্রিয় দলের রং, আর মানুষের চোখে-মুখে ফুটে উঠছে বিশ্বকাপ ঘিরে উচ্ছ্বাস।
এই উন্মাদনার কেন্দ্রবিন্দু একটি বিশাল ব্রাজিল পতাকা। যার দৈর্ঘ্য এখন ৮০০ হাত। ২০১৮ সালে মাত্র ২০০ হাতের পতাকা দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে পতাকার দৈর্ঘ্য, আর বেড়েছে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাও।

মেহেদি হাসান বলেন, ‘ভাবনহাটির আরেক সৌন্দর্য এর সম্প্রীতি। এখানে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা বিভাজন নেই, আছে শুধুই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা। গ্রামের প্রবেশপথের এক পাশে ব্রাজিল, অন্য পাশে আর্জেন্টিনার পতাকা। প্রিয় দল ভিন্ন হলেও উৎসবটা সবার।’
তিনি আরও বলেন, শুধু ভাবনহাটি নয়, বিশ্বকাপের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মাগুরাজুড়ে। গ্রামের চায়ের দোকান, বাজারের আড্ডা, শহরের মোড় কিংবা অলিগলি, সর্বত্র এখন ফুটবল নিয়েই আলোচনা। কে জিতবে, কে হারবে, কোন দল তুলবে সোনালি ট্রফি, এসব নিয়েই চলছে তর্ক আর উচ্ছ্বাস।
সজল মিয়া বলেন, ‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই জনসমক্ষে মেলে ধরা হবে ৮০০ হাতের এই বিশাল পতাকা। সেই প্রস্তুতিতে এখন ব্যস্ত গ্রামের তরুণরা। বড় পর্দায় একসঙ্গে বিশ্বকাপ খেলা দেখার পরিকল্পনাও চলছে জোরেশোরে।’

আরজ আলী বলেন, ‘দুই শত বছরের পুরোনো একটি সিন্দুকে যত্ন করে রাখা হয়েছে ৮০০ হাতের এই ব্রাজিল পতাকা। কিন্তু আসলে এখানে সংরক্ষিত আছে আরও বড় কিছু, তা হলো একটি গ্রামের ফুটবলের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। বিশ্বকাপের অপেক্ষায় এখন প্রহর গুনছে ভাবনহাটি, আর সেই অপেক্ষার রঙে রঙিন হয়ে উঠছে পুরো মাগুরা।’
তবে এই পতাকার গল্প শুধু দৈর্ঘ্যের নয়। গল্প আছে যত্ন আর আবেগেরও। গ্রামের স্থানীয় ব্যবসায়ী মেহেদি হাসানের দোকানে থাকা প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো একটি সিন্দুকে বছরের পর বছর ধরে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এই বিশাল পতাকা। যেন এটি কোনো সাধারণ কাপড় নয়, বরং একটি গ্রামের স্বপ্ন, ভালোবাসা আর স্মৃতির অমূল্য সম্পদ।
কেএম